স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন সংঘর্ষে ছিন্নভিন্ন বগি, স্বজনদের কান্নায় ভারী আকাশ, নিহত অন্তত ৬৮
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 28 Oct, 2026
পুরো স্পেন আজ এক গভীর শোকে স্তব্ধ। চোখের পলকেই যেন শেষ হয়ে গেল অসংখ্য তরতাজা প্রাণ, চিরতরে নিভে গেল অপেক্ষায় থাকা অনেকগুলো পরিবারের স্বপ্ন।
স্পেনের মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের উরদায় দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও অন্তত ৮০ জন মানুষ। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ, রক্ত আর স্বজন হারানো মানুষের আর্তনাদ—সব মিলিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে তৈরি হয়েছে এক অবর্ণনীয় বিভীষিকা।
বুধবার সকালের শান্ত পরিবেশ মুহূর্তেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। কম্পিউটারের একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল বেসরকারি পরিবহন সংস্থা ইরিওর একটি ট্রেন। ঠিক তখনই পেছন থেকে প্রচণ্ড বেগে ধেয়ে আসে সরকারি সংস্থা রেনফের আরেকটি দ্রুতগতির ট্রেন। মুহূর্তের এই প্রলয়ংকরী ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে ছিটকে পড়ে ট্রেনের একাধিক বগি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই ভয়াল মুহূর্তের কথা; তীব্র শব্দের পরপরই ট্রেনের ভেতর যাত্রীরা ছিটকে পড়েন, ভেঙে চুরমার হয়ে যায় টেবিল এবং সিটগুলো। বগির ছাদ ফুঁড়ে ঢুকে যায় প্রায় ১০ মিটার দীর্ঘ লোহার পাত। রক্ত, আগুন, চারদিকে ছড়িয়ে থাকা যাত্রীদের জিনিসপত্র আর বাঁচার আকুতিতে এক নরককুণ্ডে পরিণত হয় গোটা এলাকা।
এই অবর্ণনীয় শোকের মুহূর্তে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি বেদনাহত কণ্ঠে বলেন, আজ পুরো স্পেন কাঁদছে; এই দুর্ঘটনায় শুধু প্রাণই ঝরেনি, ধ্বংস হয়ে গেছে অনেকগুলো পরিবার—যাদের এই অপরিসীম যন্ত্রণার ভাগীদার আজ পুরো স্পেনের মানুষ।
শোকাবহ এই ঘটনার পর স্পেনের সমস্ত রাজনৈতিক নির্বাচনী প্রচার এবং কোপা দেল রে-এর ২৪টি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করে নিহতদের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে।
উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে একাধিক দমকল বাহিনী, ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ইউনিট ও তিনটি হেলিকপ্টার। তবে ধ্বংসস্তূপের একেবারে গভীরে এখনো উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে না পারায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয়টি হলো, স্পেনের পরিবহন মন্ত্রী এই মর্মান্তিক ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ 'অবিশ্বাস্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রাথমিক বর্ণনায় জানা যায়, সিগন্যাল লাল থাকা সত্ত্বেও কন্ট্রোল রুমের এক 'অব্যক্ত' ও অমার্জনীয় ভুলের কারণেই পেছনের রেনফে ট্রেনটিকে পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
চলতি বছরে একই রেললাইনে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, যা স্পেনের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে এক বিশাল প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রিয়জন হারানো মানুষের বুকফাটা কান্না আর বাতাসে ভাসমান পোড়া গন্ধে উরদার আকাশ এখন কেবলই শোকের চাদরে ঢাকা।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

